• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar
  • Skip to footer
ট্রাভেলার আতিক

ট্রাভেলার আতিক

বাংলা ট্রাভেল ব্লগ

  • হোম
  • বাংলাদেশ
    • ঢাকা বিভাগ
      • ঢাকা জেলা
      • মানিকগঞ্জ জেলা
      • মুন্সিগঞ্জ জেলা
      • কিশোরগঞ্জ জেলা
      • গাজীপুর জেলা
      • গোপালগঞ্জ জেলা
      • টাঙ্গাইল জেলা
      • নরসিংদী জেলা
      • নারায়ণগঞ্জ জেলা
      • ফরিদপুর জেলা
      • মাদারীপুর জেলা
      • রাজবাড়ী জেলা
      • শরীয়তপুর জেলা
    • চট্টগ্রাম বিভাগ
      • চট্টগ্রাম জেলা
      • কক্সবাজার জেলা
      • কুমিল্লা জেলা
      • খাগড়াছড়ি জেলা
      • চাঁদপুর জেলা
      • নোয়াখালী জেলা
      • ফেনী জেলা
      • বান্দরবান জেলা
      • ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
      • রাঙ্গামাটি জেলা
      • লক্ষ্মীপুর জেলা
    • রাজশাহী বিভাগ
      • রাজশাহী জেলা
      • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা
      • জয়পুরহাট জেলা
      • নওগাঁ জেলা
      • নাটোর জেলা
      • পাবনা জেলা
      • বগুড়া জেলা
      • সিরাজগঞ্জ জেলা
    • খুলনা বিভাগ
      • খুলনা জেলা
      • কুষ্টিয়া জেলা
      • চুয়াডাঙ্গা জেলা
      • ঝিনাইদহ জেলা
      • নড়াইল জেলা
      • বাগেরহাট জেলা
      • মাগুরা জেলা
      • মেহেরপুর জেলা
      • যশোর জেলা
      • সাতক্ষীরা জেলা
    • বরিশাল বিভাগ
      • বরিশাল জেলা
      • ঝালকাঠি জেলা
      • পটুয়াখালী জেলা
      • পিরোজপুর জেলা
      • বরগুনা জেলা
      • ভোলা জেলা
    • সিলেট বিভাগ
      • সিলেট জেলা
      • মৌলভীবাজার জেলা
      • সুনামগঞ্জ জেলা
      • হবিগঞ্জ জেলা
    • রংপুর বিভাগ
      • রংপুর জেলা
      • পঞ্চগড় জেলা
      • কুড়িগ্রাম জেলা
      • গাইবান্ধা জেলা
      • ঠাকুরগাঁও জেলা
      • দিনাজপুর জেলা
      • নীলফামারী জেলা
      • লালমনিরহাট জেলা
    • ময়মনসিংহ বিভাগ
      • ময়মনসিংহ জেলা
      • জামালপুর জেলা
      • শেরপুর জেলা
      • নেত্রকোনা জেলা
  • ভ্রমন পরামর্শ

ঐতিহ্য

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

জানুয়ারি ২, ২০২৫ by আতিকুর রহমান

বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করার ক্ষেত্রে জমিদারি প্রথা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই জমিদারি প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রাসাদ ও জমিদারবাড়ি আজও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। তারই মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নাম হলো বালিয়াটি জমিদার বাড়ি (Baliati Jamidar Bari) এবং বালিয়াটি প্রাসাদ (Baliati Palace), যা মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানায় অবস্থিত।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ও প্রাসাদের ইতিহাস

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ও প্রাসাদ সাটুরিয়া থানার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত, যা একসময় বাঙালি জমিদারদের রাজত্বের কেন্দ্র ছিল। বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। এই প্রাসাদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮০০ শতকের শুরুতে, এবং এটি এক সময় বাংলার অন্যতম প্রধান জমিদারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।

এটি বালিয়াটি জমিদার পরিবার দ্বারা নির্মিত হয়, যাদের পূর্বপুরুষরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারি প্রথায় শাসন পরিচালনা করতেন। বালিয়াটি জমিদার পরিবারের প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, তারা একসময় মানিকগঞ্জ জেলার অনেক এলাকা শাসন করতেন।

বালিয়াটি জমিদারদের পরিচিতি

বালিয়াটি জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মো. আলী আহমেদ। তিনি বালিয়াটি গ্রামে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার পরবর্তী প্রজন্মরা জমিদারি পরিচালনা করেছিল এবং এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এই জমিদার পরিবার ঐতিহাসিকভাবে খুবই শক্তিশালী ছিল এবং তাদের জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত বিলাসবহুল। তারা এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করতেন এবং এভাবে তাদের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।

বালিয়াটি জমিদারেরা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারা শিল্পকলার প্রসারে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিলেন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন।

বালিয়াটি প্রাসাদের স্থাপত্য

বালিয়াটি প্রাসাদ একটি অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। এটি নির্মিত হয়েছিল বাংলা, ইসলামিক এবং ব্রিটিশ স্টাইলের সম্মিলিত মিশ্রণে। প্রাসাদটির মূল ভবনটি বিশাল, এবং এর চারপাশে সুন্দর বাগান ও খাল রয়েছে। এটি দেখতে এক ধরনের রাজকীয় বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, যা একে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

প্রাসাদটির প্রধান ভবনটি কয়েকটি তলা বিশিষ্ট এবং সেখানে ছিল নানা ধরনের অত্যাধুনিক সুবিধা, যেমন বড় বড় কক্ষ, বিশাল লাইব্রেরি, বিলাসবহুল শোবার ঘর, এবং খেলার মাঠ। পুরো প্রাসাদটি নির্মিত হয়েছিল প্রশস্ত বারান্দা, উচ্চ সিলিং এবং রাজকীয় অন্দরমহল দিয়ে। প্রাসাদটির প্রতিটি কোণে তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও মহিমা অনুভূত হয়।

বালিয়াটি প্রাসাদের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

বালিয়াটি প্রাসাদ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, এটি স্থানীয় সংস্কৃতির এবং ঐতিহ্যের একটি প্রতীক। প্রাসাদটি একসময় স্থানীয় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, নাটক, গান, নৃত্য, এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব অনুষ্ঠান পরিচালিত হত এবং তা এলাকার মানুষের জীবনে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করেছিল।

বালিয়াটি প্রাসাদে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত, যার মধ্যে কিছু ছিল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, যেগুলো জমিদারের সম্মান বৃদ্ধি করত। এই প্রাসাদটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে শিক্ষা, শিল্পকলা, এবং সংস্কৃতির প্রচারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

বালিয়াটি জমিদারি ও এলাকার উন্নয়ন

বালিয়াটি জমিদার পরিবার একসময় স্থানীয় সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তারা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ছিল স্কুল, মসজিদ, গির্জা, হাসপাতাল, এবং রাস্তা নির্মাণ। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা জনকল্যাণে সাহায্য প্রদান করেছিল এবং এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছিল।

জমিদাররা সাধারণ জনগণের জন্য অনেক ধরনের কল্যাণমূলক কাজ করতেন, যেমন ঋণ প্রদান, শিক্ষা প্রসার, চিকিৎসা সুবিধা প্রদান, এবং সামাজিক সহায়তা। তাদের এসব কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি শক্তিশালী সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক ছিল।

বালিয়াটি জমিদারি ও প্রাসাদের পতন

ভারতের স্বাধীনতার পর, এবং বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর, জমিদারি প্রথা অনেকাংশে বিলুপ্ত হয়ে যায়। জমিদারি আইন অনুসারে, জমিদারি প্রথার অবসান ঘটে, এবং বালিয়াটি জমিদারি বাড়ির পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি দখলে চলে যায়। এর ফলে, বালিয়াটি প্রাসাদও এক ধরনের পতনের মুখে পড়ে। তবে, প্রাসাদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে এবং এটি স্থানীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

আজকের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ও প্রাসাদ

বর্তমানে, বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ও প্রাসাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এটি অনেক পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। প্রাসাদটি স্থানীয় ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বের জন্য সুনাম অর্জন করেছে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মাঝে এটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংরক্ষণে পদক্ষেপ নেয়।

উপসংহার

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ও প্রাসাদ সাটুরিয়া থানার একটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি বাংলাদেশের জমিদারি যুগের একটি অনন্য স্মৃতিচিহ্ন, যা ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্থাপত্যের মিলনস্থল হিসেবে গণ্য হয়। আজকের প্রজন্মের জন্য এটি একটি শিক্ষা, ইতিহাস, ও সংস্কৃতির অমূল্য রত্ন।

সময়সূচি

দিন সময়
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা – বিকেল ৫টা
শুক্রবার সকাল ১০টা – বিকেল ৫টা
শনিবার সকাল ১০টা – বিকেল ৫টা
রবিবার বন্ধ
সোমবার দুপুর ২টা – বিকেল ৫টা
মঙ্গলবার সকাল ১০টা – বিকেল ৫টা
বুধবার সকাল ১০টা – বিকেল ৫টা

মানচিত্র

গুগলের মানচিত্রে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি।

Filed Under: ঢাকা, বাংলাদেশ, ভ্রমণ গন্তব্য, মানিকগঞ্জ Tagged With: ইতিহাস, ঐতিহ্য, জমিদার বাড়ি, বালিয়াটি, বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, বালিয়াটি প্রাসাদ, মানিকগঞ্জ, মানিকগঞ্জ জেলা, সংস্কৃতি, সাটুরিয়া উপজেলা

আহসান মঞ্জিল

জানুয়ারি ২, ২০২৫ by আতিকুর রহমান

আহসান মঞ্জিল জাদুঘর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক নিদর্শন। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত আহসান মঞ্জিল প্রাসাদটি ঢাকা শহরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি শুধুমাত্র স্থাপত্যের দিক থেকেই নয়, বরং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আহসান মঞ্জিল জাদুঘর
আহসান মঞ্জিল জাদুঘর

ইতিহাস ও অবস্থান

আহসান মঞ্জিল ছিল ঢাকার নবাব পরিবারের সরকারি বাসভবন ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। নবাব আবদুল গণি এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন এবং এটি তার ছেলে খাজা আহসানের নামে নামকরণ করা হয়। প্রাসাদটি এক সময়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আলোচনা সভার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আহসান মঞ্জিলকে ১৯৯২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর “জাতীয় ঐতিহাসিক ভবন” হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং এটি ১৯৯২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জাদুঘর হিসেবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

আহসান মঞ্জিল কেবল একটি স্থাপত্য নিদর্শন নয়, এটি ঢাকা শহরের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এটি ব্রিটিশ শাসনামলে ঢাকার নবাব পরিবারের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির প্রতীক ছিল। প্রাসাদটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সভার স্থান ছিল, যেখানে ব্রিটিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা হতো।

১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক আলোচনা আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। এছাড়া, এই প্রাসাদটি বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

স্থাপত্যশৈলী ও গঠন

আহসান মঞ্জিলের স্থাপত্যশৈলী ইন্দো-সারাসেনিক পুনর্জাগরণ রীতিতে নির্মিত, যা ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতির এক অনন্য নিদর্শন। এটি বাংলাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ও মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। পুরো প্রাসাদটি ১ মিটার উঁচু একটি ভিত্তির ওপর নির্মিত দুই তলা ভবন, যার দৈর্ঘ্য ১২৫.৪ মিটার এবং প্রস্থ ২৮.৭৫ মিটার। নিচতলার উচ্চতা ৫ মিটার ও উপরতলার উচ্চতা ৫.৮ মিটার।

ভবনের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে নিচতলার সমান উচ্চতার বারান্দা রয়েছে। বিশেষভাবে দক্ষিণ দিকের প্রশস্ত বারান্দা থেকে একটি সিঁড়ি নেমে সামনের বাগান পেরিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পৌঁছে গেছে। একসময় এই বাগানে একটি সুদৃশ্য ঝরনা ছিল, যদিও তা এখন আর নেই। বারান্দা ও কক্ষগুলো মার্বেল পাথরে আচ্ছাদিত, যা স্থাপনাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রাসাদটির মূল ভবনটি দুই ভাগে বিভক্ত – পূর্বাংশ ও পশ্চিমাংশ। এর প্রধান গম্বুজটি গোলাপী রঙের, যা দূর থেকেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভবনের সামনের অংশে রয়েছে একটি প্রশস্ত সিঁড়ি, যা সোজা বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে চলে গেছে।

ভবনের অভ্যন্তরে রয়েছে অসংখ্য কক্ষ ও হলরুম, যা নবাব পরিবারের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার পরিচায়ক। প্রতিটি কক্ষেই দেখা যায় জটিল নকশায় নির্মিত ছাদ, ঝাড়বাতি ও ঐতিহ্যবাহী আসবাবপত্রের সমাহার। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত মার্বেল পাথর এর শৌখিনতা ও স্থাপত্যগুণ আরও নান্দনিকভাবে তুলে ধরেছে।

গম্বুজের নির্মাণ

আহসান মঞ্জিলের গম্বুজ নির্মাণ ছিল নিখুঁত কারিগরির নিদর্শন। নিচতলার একটি চতুষ্কোণ কক্ষের কোণাগুলো ইটের সাহায্যে গোল করা হয়। এরপর ছাদের কাছে এটি আট কোণা করা হয় ‘স্কুইঞ্চ’ পদ্ধতিতে, যা গম্বুজের ড্রামের আকার ধারণ করে। আট কোণাকে কেন্দ্র করে ধাপে ধাপে তুলে তৈরি করা হয় ‘কমল কুঁড়ি’ আকৃতির গম্বুজটি। এই গম্বুজের উচ্চতা ভূমি থেকে ২৭.১৩ মিটার।

নির্মাণকাল ও নামকরণ

এই প্রাসাদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৮৫৯ সালে এবং শেষ হয় ১৮৭২ সালে। নবাব আব্দুল গনি এটি তার পুত্র নবাব খাজা আহসানউল্লাহ-এর নামানুসারে “আহসান মঞ্জিল” নামকরণ করেন। নির্মাণের পর নতুন ভবনটি “রং মহল” নামে পরিচিতি পায়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংস্কার

১৮৮৮ সালের ৭ এপ্রিল একটি ঘূর্ণিঝড়ে প্রাসাদের পুরনো অংশ “অন্দর মহল” ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর পুনর্নির্মাণের সময় পুরো প্রাসাদে ব্যাপক সংস্কার করা হয় এবং বর্তমান গম্বুজযুক্ত রং মহলটি নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ১৮৯৭ সালের ১২ জুন এক ভূমিকম্পে আহসান মঞ্জিল আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নবাব আহসানউল্লাহ তখন এটি পুনরায় মেরামত করেন।

বর্তমান অবস্থা

স্বাধীনতার পর আহসান মঞ্জিল একটি জাদুঘরে পরিণত হয়। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণ করছে। বর্তমানে এটি ঢাকার অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী আহসান মঞ্জিল পরিদর্শনে আসেন।

জাদুঘরটিতে নবাব পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, ছবি, এবং অন্যান্য নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। এতে নবাব পরিবারের ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

আহসান মঞ্জিল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা

আহসান মঞ্জিল পরিদর্শন এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এর সৌন্দর্য, স্থাপত্য, এবং ইতিহাস দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রাসাদের চারপাশের সুন্দর বাগান এবং বুড়িগঙ্গা নদীর দৃশ্য এর পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

সংরক্ষণ ও চ্যালেঞ্জ

আহসান মঞ্জিল সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, নগরায়ণ ও পরিবেশ দূষণের কারণে এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ এবং প্রাসাদের আশেপাশের অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ এর সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উপসংহার

আহসান মঞ্জিল বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ। এটি আমাদের অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ ঘটায়। প্রাসাদটি আমাদের দেশের সংস্কৃতি, স্থাপত্য, এবং ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। সঠিক সংরক্ষণ ও যত্নের মাধ্যমে এই নিদর্শনটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।

সময়সূচি ও টিকিট

সময়সূচি

দিন সময়
বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০ – বিকেল ৪:০০
শুক্রবার বিকেল ৩:০০ – সন্ধ্যা ৬:৩০
শনিবার সকাল ১০:৩০ – বিকেল ৪:০০
রবিবার সকাল ১০:৩০ – বিকেল ৪:০০
সোমবার সকাল ১০:৩০ – বিকেল ৪:০০
মঙ্গলবার সকাল ১০:৩০ – বিকেল ৪:০০
বুধবার সকাল ১০:৩০ – বিকেল ৪:০০

টিকিট

মূল্য তালিকা

টিকিটের ধরন মূল্য (BDT) সার্ভিস চার্জ
বাংলাদেশি (বয়স্ক) ৪০.০০ ৪.০০%
বাংলাদেশি (শিশু) ২০.০০ ৪.০০%
বিদেশি ৫০০.০০ ৪.০০%
সার্ক দেশসমূহের নাগরিক ৩০০.০০ ৪.০০%

অনলাইনে টিকেট

বিশেষ দ্রষ্টব্য: টিকেটের বর্তমান মূল জানতে, অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করতে, ও অন্যান্য তথ্য জানতে সরাসরি আহসান মঞ্জিল জাদুঘরের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন: https://www.ahsanmanzilticket.gov.bd/

মানচিত্র

গুগলের মানচিত্রে আহসান মঞ্জিল।

Filed Under: ঢাকা, বাংলাদেশ, ভ্রমণ গন্তব্য Tagged With: আহসান মঞ্জিল, আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, ইতিহাস, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ঐতিহ্য, ঢাকা, ঢাকা জেলা, স্থাপত্যিক নিদর্শন

Primary Sidebar

জনপ্রিয় পোস্ট

সাম্প্রতিক পোস্ট

  • ঢাকা বিভাগ
  • বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা
  • বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকো পার্ক, সীতাকুন্ড
  • রমনা পার্ক
  • দায়িত্বশীল ভ্রমণ টিপস: বর্জনীয় বিষয় সমূহ
  • খেলারাম দাতার কোঠা
  • বাংলাদেশের ১০টি আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান

Footer

সেরা পছন্দ

  • » বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার ভ্রমণ স্পট ও দর্শনীয় স্থান
  • » ভ্রমণের আগে করণীয় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ: সঠিক প্রস্তুতির চেকলিস্ট
  • » ভ্রমণের আগে করণীয় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ
  • » বাংলাদেশ: প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অপার সৌন্দর্যের দেশ

কপিরাইট © ২০২৫ ট্রাভেলার আতিক, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

  • সম্পর্কিত
  • গোপনীয়তা
  • শর্তাবলী
  • যোগাযোগ
  • সাইটম্যাপ